Food Culture 1024x479

রেস্তোরাঁ কালচারে সাভার

সাভারের একটা অপবাদ আছে যে এখানে ভাল কোন রেস্টুরেন্ট নেই। এর কারণ জানতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে। ইতিহাসবিদদের কনসেনসাস অনুযায়ী সাভারের বয়স প্রায় আড়াই হাজার বছর। আর অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন সাভারের বয়স কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার বছর। মোটামুটি ওয়ারী বটেশ্বরের বয়সের কাছাকাছি। সব বাদ দিয়ে যদি সাভারের লিখিত ইতিহাসের কথাই ধরি, তাহলেও সেটা মোটামুটি দুই হাজার বছর। অর্থাৎ, সর্বস্বীকৃতভাবে সাভারের টেস্ট বাডের বয়স দুই হাজার বছর। অনেক প্রাচীনকাল থেকেই সাভার একটা মাল্টিকালচারাল মাল্টি-এথেনিক জনপদ হিসেবে গড়ে উঠেছে। সাভার তার প্রমিনেন্সে পৌঁছায় সপ্তম শতাব্দীতে। রাজা হরিশ চন্দ্রের আমলে। কথিত আছে, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকা পর্যন্ত রাজা হরিশ চন্দ্রের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল এবং এর রাজধানী ছিল সাভার। এই বক্তব্যের অনেক অনেক জোরালো নিদর্শন এখনো সাভার জুড়ে খুঁজে পাওয়া যায়।

ভারতবর্ষের মুসলিম বিজয়ের পর সাভার একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। এখান থেকে কৃষিপণ্য, বাঁশ ও শাল-গজারী কাঠ ভারতবর্ষের দূর দূরান্তে চলে যেত। শের শাহের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অন্যতম প্রধান একটা হাব ছিল সাভার। সাভারের দুগ্ধশিল্পের সুখ্যাতি মুঘল দরবার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মুঘল সম্রাটদের রসনায় যে ঘী ব্যাবহার করা হতো, তার অনেক বড় সাপ্লায়ার ছিল সাভার। সারা বাংলাদেশে এতো জায়গা থাকতে পাকিস্তান আমলে সেন্ট্রাল ক্যাটল ব্রিডিং সেন্টার অর্থাৎ আমরা যেটাকে ডেইরী ফার্ম বলে জানি সেটা সাভারে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর কারণ হলো, সেই সময়ে পার স্কয়ার কিলোমিটারে সাভারের মত গবাদিপশুর ঘনত্ব আর কোথাও ছিল না। সেই সাথে ছিল বিস্তৃত চারণভূমি।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর সাভারে প্রথম বারের মত ব্যাপক মানুষের আগমন ঘটে। এরা সাথে করে নিয়ে আসে এদের কালচার ও খাদ্যাভ্যাস। সাভারের আজকের যে ডেমোগ্রাফি আমরা দেখি তার শুরু আশির দশকের শেষের দিকে ঢাকা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে। আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, তা হলো ৮৮ সালের বন্যা। বাংলাদেশের অনেক বন্যা উপদ্রুত এলাকা থেকে অনেক মানুষ সাভারে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে এর তুলনামূলকভাবে উঁচু ভৌগলিক অবস্থান ও লো লিভিং কস্ট এর কারণে। ধীরে ধীরে এখানে মানুষ বেড়েছে, সেই সাথে বেড়েছে মানুষের নানারকম প্রয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট।

আজকে আমরা সাভার বলতে যা কিছু দেখি, তার শুরু হয়েছিল বংশী নদীর তীরে অবস্থিত সাভার বাজারকে কেন্দ্র করে। আর সাভার বাজার মানেই হলো সাভার নামা বাজার‌‌‌। আশির এর দশকের পর থেকে এখানকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজারেও সম্প্রসারণ হয় এবং সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এর চারপাশে বাজার গড়ে উঠতে থাকে। ধীরে ধীরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডই বাইরের লোকের কাছে সাভার বাজার হয়ে যায় এবং আদী সাভার বাজারের নাম হয়ে যায় সাভার নামা বাজার‌‌‌।

চৌরঙ্গী সুপার মার্কেট, ইউসুফ মার্কেট ও ওয়াপদা রোডের আশেপাশে গড়ে ওঠে নতুন নতুন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রয়োজনে ধীরে ধীরে বাজারও বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে ওঠে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। ভিন্ন ঘরানার রেস্টুরেন্টের কথা বললে সবার আগে বলতে হবে সুরুচি হোটেল এর কথা। ভালো মানের খাবার নিয়ে এসে সুরুচি সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল। সুরুচির সবচেয়ে নামকরা খাবার ছিল গরুর গোশত ও সরিষার তেল দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত পাওয়া যেত এই খিচুড়ি।

সমসাময়িক সময়ে সুরুচির পাশাপাশি গড়ে ওঠে ইসলামিয়া, শুভেচ্ছা ও রুবিয়া। এসব রেস্টুরেন্টগুলোতে কনভেনশনাল খাবার ছাড়াও পাওয়া যেত গরু ও খাসির কাবাব ও নান রুটি। সাভারের কাবাব ও নান প্রেমীদের মূল আকর্ষণ ছিল সুরুচি। শুভেচ্ছার মাইলস্টোন ফুড ছিল ফালুদা। এরই মধ্যে অভিজাত লোকজনের জন্য প্রয়াত বুলু ভাই নিয়ে আসেন হাইওয়ে রেস্তোরাঁ। পরবর্তীতে এরই এক্সটেনশন হিসেবে নিয়ে আসেন চায়না টাউন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। চায়না টাউন ছিল সাভারের প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট।

ঢাকা-আরিচা রোডের পূর্ব পাশে মানসম্মত খাবারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে খালেক ও মালেক ভাইয়ের এশিয়ান হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট। সাভারের বেস্ট বটি কাবাব পাওয়া যায় মূলত এখানেই। এরই মধ্যে, ৯৮/৯৯ সালের দিকে বাজার বাসস্ট্যান্ড‌‌‌ এর ওভার ব্রীজের পূর্ব পাশে তৈরি হয় নিউ স্টার রেস্টুরেন্ট। নিউ স্টার রেস্টুরেন্টের খাসির বটি কাবাব ও নান অমৃততুল্য ছিল। সব কিছু ছাপিয়ে নিউ স্টার রেস্টুরেন্টের চা হয়ে উঠেছিল তখনকার সময়ের সেনসেশন।

২০০১/২০০২ সালে দিলখুশা সুপার মার্কেট এর আন্ডারগ্রাউন্ডের পুরোটা জুড়ে অনেক বড় স্পেস নিয়ে তৈরি হয় ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট। আন্ডারগ্রাউন্ড রেস্টুরেন্ট হওয়ায় এটা হয়ে ওঠে কাপলদের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু অব্যাবস্থাপনা ও খাবারের মানের নিম্নগামীতার কারণে বছর দুয়েকের মধ্যেই ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যায়।

সাভারের মানুষের রেস্টুরেন্ট কালচার তৈরির ক্ষেত্রে উপরের রেস্টুরেন্টগুলোর বিশেষ ভূমিকা ছিল। একেকটা রেস্টুরেন্টের একেকটা খাবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। কোনটার বিরিয়ানী, কোনটার খিচুড়ি, কোনটার কাবাব নানের বেশ সুনাম ছিল। খাবারের মান ধরে রাখার জন্য রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। খারাপ খাবার দেয়ার তো সুযোগই ছিল না। রেস্টুরেন্টের মালিক এবং কাস্টমার – সবাই সবার পরিচিত, কোন কোন ক্ষেত্রে আত্মীয়। রেস্টুরেন্টগুলো ছিল বন্ধুদের মিলনস্থল। ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা চলতো এগুলোতে। রাত বিরেতে বিরিয়ানী, খিচুড়ি বা কাবাব নান খাওয়ার জন্য দল বেঁধে চলে যেতাম বাসস্ট্যান্ডে। সবচেয়ে মজা হতো চান রাতে। হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, সাধাপুর, বিরুলিয়া, আশুলিয়া, পাথলিয়া, ধামরাই, এমনকি মানিকগঞ্জ থেকেও বন্ধু বান্ধব চলে আসতো চান রাতের শপিংয়ে। সারা রাত চলতো ঘুরাফিরা, কেনাকাটা আর খাওয়া দাওয়া। সারা বাজার বাসস্ট্যান্ড‌‌‌ পরিনত হতো এক বিশাল মিলনমেলায়। সিনিয়র জুনিয়রদের জন্য আলাদা আলাদা রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ ছিল। রেস্টুরেন্ট এ সিনিয়র জুনিয়র ইস্যুতে কত মারামারি হয়েছে – তা বলে শেষ করা যাবে না।

৯৫/৯৬ সালের দিকে সাভারে আসে কাক্কু হালিম। সুরুচি হোটেল এর সামনে ঠেলাগাড়ির ভ্যানে করে ব্যাবসা শুরু করে কাক্কু হালিম। এখনো পর্যন্ত একই ভাবে একই জায়গায় সুনামের সাথে কাক্কু হালিম ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সুরুচি রেস্টুরেন্ট থেকে নান বা তন্দুরি রুটি নিয়ে কাক্কু হালিম দিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। যদিও কাক্কূ হালিম এর বর্তমান খাবারের মান কেমন জানি না। যদি আগের মতো থাকে, তাহলে খারাপ লাগবে না আশা করি।

থানা রোডকে বলা হয় সাভারের বেইলি রোড এবং এই এলাকার রেস্টুরেন্ট প্রেমীদের প্রথম পছন্দের জায়গা এটাই। কিন্তু মাত্র বিশ বছর আগেও এই রোডের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আশির দশকের শেষ দিকে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে দুলালের হোটেল দিয়ে শুরু হয় এই এলাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। দুলালের হোটেল এর মূল মেনুতে ছিল সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার। সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করেই এই রেস্টুরেন্ট চলত ও এখনও চলছে। এটা একটা পুরোপুরি দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট। গরু খাসি মুরগি থেকে শুরু করে বড় বড় মাছের সমারোহ ছিল এই রেস্টুরেন্টে, হয়তো এখনো আছে। সাভারের প্রায় সব রথী মহারথীরা অন্তত একবার হলেও দুলালের হোটেলে খেয়েছে।

দুলালের হোটেলকে বাদ দিলে এই রোডের সবচেয়ে পুরোনো রেস্টুরেন্ট হল আনন্দ হোটেল। বাঁশের বেড়া দিয়ে ছাপড়া রেস্টুরেন্টটা ছিল থানা রোডের একদম মাথায়, অর্থাৎ ঢাক-আরিচা হাইওয়ে সংলগ্ন। বাঁশের বেড়ার খাবারের দোকান হলেও মানের দিক থেকে খুবই ভালো ছিল আনন্দ। আর আনন্দের ঠিক পাশেই নব্বই এর দশকের একদম শেষের দিকে গড়ে ওঠেছিল নিউ প্রিন্স হোটেল। দুটোই কনভেনশনাল দেশী খাবারের দোকান ছিল। আজকে যেখানে “হাজী বিরিয়ানী” অবস্থিত ঠিক তারই পূর্ব পাশে ছিল নিউ প্রিন্স হোটেল।

সেসময়ের থানা রোডের আশেপাশের এলাকায় একটু বর্ণনা না দিলে লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এখন যেখানে চাকলাদার মহিলা কলেজ, তার ৫০ গজ পশ্চিম দিকে একটা পয়েন্ট কল্পনা করে, সেই পয়েন্ট থেকে সোজা দক্ষিণ দিকে জেকে গার্মেন্টস পর্যন্ত একটা লাইন টানুন, এরপর জেকে গার্মেন্টস থেকে কোনাকুনি একটা লাইন টানুন বেঙ্গল সিরামিকের ফ্যাক্টরী পর্যন্ত, সেখান থেকে রাস্তা বরাবর একটা লাইন টানুন লন্ডনাস রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত এবার লন্ডনাস থেকে থানা রোড ঘেঁষে পূর্ব দিকে চলে যান যেখান থেকে লাইন টানা শুরু করেছিলেন সেই পয়েন্ট পর্যন্ত। আপনার চতুর্ভুজের ভেতরে পাবেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, তারাপুরের মাঠ এবং তালবাগের পশ্চিমাংশের একটা বিশাল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। বর্ষায় এই পুরো এলাকা জুড়ে থাকতো গড়পড়তা ৬ ফুট পানি। কিছু কিছু জায়গায় সারা বছর পানি থাকতো। আশ্বিন কার্তিক মাসে পানি কমে গেলে কিছু কিছু জমিতে ধান চাষ হতো।

থানা রোডের দুই পাশ দিয়ে ছিল ঘন কলমির ঝোপ। সাভার কলেজের সামনে যেখানে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল সেখানে দ্বীপের মতো ছিল সাভার ইউনিয়ন পরিষদের অফিস। এর সামনেই একটা কালভার্ট ছিল। যেখানে বর্তমানে নার্স ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট তৈরি হচ্ছে সেখানে বর্ষায় ৪০ ফুট পানি হতো এবং ঐ কালভার্টের নীচে দিয়ে গার্লস স্কুল রোড পর্যন্ত চলে যেত। মোদ্দা কথায়, সাভার কলেজের পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে, মুক্তি ক্লিনিকের পশ্চিম পাশে, এনাম মেডিকেল কলেজ এর পূর্ব পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের আধ কিলোমিটার ও সাভার প্রেস ক্লাবের ডানে বামে সবই ছিল খাল বিল ডোবা ও ধানক্ষেত।

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সাভার থানা হেলথ কমপ্লেক্সে বদলী হয়ে আসেন এক তরুণ চিকিৎসক। সাভারে তখন ভালো কোন ডাক্তার ছিল না। তখন সাভারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল তথৈবচ। রোগীকে অনেক সময়ই হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব হয়ে উঠতো না। তাই রাত বিরেতে বা ঝর বৃষ্টির মধ্যেও ডাক্তার বাবুকেই যেতে হতো রোগীর কাছে। কখনো নৌকায়, কখনো প্যান্ট গুটিয়ে কাদামাটির রাস্তায়। সরকারী ডাক্তারের অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে। তাই সরকারী চাকরী ছেড়ে দিয়ে তিনি শুরু করেন প্রাইভেট প্র্যাকটিস। খুব ছোট পরিসরে বর্তমানে যেটা মুক্তি ক্লিনিক তার সামনেই একটা চেম্বার খুলে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে চেম্বার থেকে একটা ছোট্ট ক্লিনিক, ক্লিনিক থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সেই তরুণ ডাক্তারের নাম ডাঃ এনামুর রহমান।

আজকের থানা রোডের যে কলেবর, তার পেছনে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটা প্রতিষ্ঠান কিভাবে একটা এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারে, এটা তারই নমুনা। যাই হোক, এখন যেখানে সাভার প্রেস ক্লাব, ঠিক সেখানেই ১৯৯৯ কিংবা ২০০০ সালে কয়েকজন বন্ধু (লন্ডনাসের মাসুদ, ভাগলপুরের ডলার ও বনপুকুরের সুজয়) মিলে একটা টি স্টল দিয়েছিল। নাম দিয়েছিল “যাই চাই তাই পাই”। আহামরি কিছু না। টুকটাক স্ন্যাকস, চা ও কফি। শুধু এটুকু দিয়েই তারা সাভারবাসীর মন জয় করে নিয়েছিল। টি স্টলটির বৈশিষ্ট্য ছিল এর নান্দনিক ওপেন এয়ার সিটিং এরেইঞ্জমেন্ট। বৃক্ষ ফুল লতা পাতা ঘেরা, কোলাহল মুক্ত একটি বাগানে দু’দন্ড বসে এক কাপ চা খাওয়ার জন্য থানার বড়কর্তা থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চলে আসতেন এখানে।

২০০৮/৯ সালের দিকে চাকলাদার মহিলা কলেজ এর ঠিক পশ্চিম পাশে ছোট্ট একটা জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু করে সাভারের প্রথম ফাস্ট ফুড জয়েন্ট, ক্যাফে মেট্রো। ফাস্ট ফুড যে সাভারে তখন ছিল না, ঠিক তা নয়। বেশিরভাগই ছিল বেকারী ব্যাবসার অন্তর্গত। সততা বেকারী, সাভার বেকারী, মাসুদ বেকারীর বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে বন রুটির ভেতরে তেলে ভাজা মুরগী দিয়ে তৈরি হতো বার্গার, স্লাইস ব্রেডের মধ্যে হাবিজাবি দিয়ে তৈরি হতো স্যান্ডুইচ। চৌরঙ্গী মার্কেট, অন্ধ মার্কেট ও রাজ্জাক প্লাজা ও কোরাইশী মার্কেট এর প্রায় সবগুলো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সাইডলাইনে চলতো এধরণের ফাস্ট ফুড আইটেম। ২০০৭-এ সিটি সেন্টারের নীচ তলায় ক্যাফে লিমালী তুলনামূলকভাবে ভাল ফাস্টফুড নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মূলত সাভারের ফাস্টফুড কালচার তৈরি হয় ক্যাফে মেট্রোর যাত্রা শুরুর মধ্যে দিয়ে। ক্যাফে মেট্রোর সত্ত্বাধিকারী আশরাফ ভাই সদালাপী, এবং নিপাট ভদ্রলোক। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা তিনি শিখেছেন দেশের বাইরে থেকে। প্রথম প্রথম খাবারের মান নিয়ে টুকটাক সমস্যা হলেও নিজের ধৈর্য ও ব্যবহার দিয়ে জয় করে নিয়েছেন এখানকার মানুষের মন। ক্যাফে মেট্রোর আজকের অবস্থানে আসতে এর পেছনে কী পরিমাণ স্ট্রাগল, হার্ড ওয়র্ক ও ডেডিকেশন ইনভেস্ট করতে হয়েছে – তা আশরাফ সাহেবের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া খু বেশি মানুষ জানে না।

আজকের যে লন্ডনাস রেস্টুরেন্ট, ২০০৮/৯ সালে সেটা ছিল মূলত একটা অফশোর ট্রেইনিং সেন্টার। বিভিন্ন ধরনের ওয়েল্ডিং, পাইপ ফিটিং ও মেটাল ফ্যাব্রিকেশনের ট্রেইনিং দেয়া হতো এখানে। বছর দুয়েকের মধ্যেই ট্রেইনিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশ ফেরত এক যুবক স্পেসটা ভাড়া নিয়ে শুরু করে রেস্টুরেন্ট। বাংলা ও চাইনিজ খাবারের রেস্টুরেন্ট হলেও লন্ডনাসের চাইনিজ খাবারটাই বেশিরভাগ মানুষের গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *